আলজেরিয়ায় প্রাচীন ভাষাকে সরকারি ভাষার মর্যাদা

1প্রাচীন ‘বারবার’ জনগোষ্ঠীর ভাষাকে সরকারি ভাষার মর্যাদা দিয়ে পার্লামেন্টে একগুচ্ছ সংস্কার প্রস্তাব পাস করলেন আলজেরিয়ার আইনপ্রণেতারা। প্রস্তাবের অধীন কোনো ব্যক্তির সর্বাধিক দুই মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে থাকার পূর্ববর্তী বিধানও পুনর্বহাল করা হয়েছে। খবর বিবিসির।

পাস হওয়া অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে নিরপেক্ষ ও স্বাধীন নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রতিশ্রুতি এবং নারী ও তরুণদের ভূমিকার স্বীকৃতি। এ ছাড়া নতুন পদক্ষেপের অধীন এখন থেকে পার্লামেন্টের বৃহত্তম দল থেকে একজন প্রধানমন্ত্রী মনোনীত করতে হবে। এ কাজটি করবেন প্রেসিডেন্ট।

প্রাচীন ওই ভাষাকে সরকারি ভাষার স্বীকৃতি দেওয়ার ফলে আলজেরিয়ার রাষ্ট্রীয় নথিপত্র এ ভাষায় লেখা হবে। ‘বারবার’ ভাষাভাষী অঞ্চলের স্কুলগুলোতে সরকারিভাবে এ ভাষায় পাঠদান করা যাবে। তবে সরকারি ভাষা হিসেবে যথারীতি আরবি বহাল থাকবে। প্রাচীন এই ভাষা স্থানীয়ভাবে ‘আমাজিঘ’ নামে পরিচিত। ২০০২ সালে এটি আলজেরিয়ার জাতীয় ভাষার স্বীকৃতি পায়।

সপ্তম শতাব্দীর আগ পর্যন্ত বারবার গোষ্ঠীর লোকেরা ছিলেন প্রকৃতপক্ষে উত্তর আফ্রিকার অধিবাসী। বর্তমানে আলজেরিয়ার ৩ কোটি ৯০ লাখ জনসংখ্যার ১ কোটি ৩০ লাখই প্রাচীন এই গোষ্ঠীর লোক।
এদিকে নতুন সংস্কার পদক্ষেপের উল্লেখযোগ্য আরেকটি হলো, একজন ব্যক্তির প্রেসিডেন্ট থাকার মেয়াদ দুই দফার মধ্যে সীমিত রাখা। বিধানটি আগেই ছিল। কিন্তু বর্তমান প্রেসিডেন্ট আবদেলআজিজ বুতেফ্লিকার তৃতীয় মেয়াদে অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টিতে ২০০৮ সালে এটি বাতিল করা হয়েছিল। এখন ওই দুই মেয়াদের বিধান আবার ফিরিয়ে আনা হলো। এর ফলে গণতন্ত্র আরও মজবুত হবে বলে বলছে সরকার।
তবে বিরোধীরা এ পদক্ষেপকে লোক দেখানো আখ্যায়িত করে প্রত্যাখ্যান করেছে।

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Pin on Pinterest0Print this page