আরএমজি টাইমস’র অগ্রযাত্রায় শুভকামনা

zobairন্দকার যোবায়ের : যে দেশে উঠতি যুবক যুবতীর দল লেট নাইট পার্টি, কেএফসি, পিৎজা হাট আর ডিজে পার্টি  নিয়ে পরে থাকে, রাতে বার্সা-রিয়ালের পরাজয়ে মুষড়ে পড়ে। যে দেশের তrfTরুণেরা প্রেমিকার সাথে অভিমানে কিংবা প্রিয় দলের পরাজয়ে আত্মহত্যা করে; ভারতীয় অপ-স্বংস্কৃতির আগ্রাসনে পাখি বা কিরণমালা পোশাকের জন্য আত্মহুতি দেয়, সেই দেশের কিছু যুবক যুবতী মেকি অভিমান আর স্বাদ আহ্লাদকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে প্রতিদিন ঝাপিয়ে পড়ে জীবন সংগ্রামে। জীবন আর জীবিকার প্রয়োজনে ছুটে চলে জীবনের পথে।

হ্যাঁ! আমি পোশাক শ্রমিকদের কথাই বলছি। তাদের সর্বোচ্চ আনন্দ ঐ স্টার সিপ্লেক্সে নয়, মেসির বাঁ পায়ের জাদুতেও নয়। রমনার বটমূল, টিএসসি, ডিজে পার্টি তাদেরকে টানে না। অথচ তারাই জাতীয় অর্থনীতিতে রাখছে ৮০ শতাংশ অবদান। তাদের সর্বোচ্চ আনন্দ প্রতি মাসের শেষে বাড়িতে পাঠানো নিজের ঘামসিক্ত প্রতিটি টাকায়। প্রতি সেমিষ্টার শেষে বাবার কাছে সেমিষ্টার ফি চাওয়া তো দুরের কথা; উল্টো প্রতি মাস শেষে অসুস্থ্য বাবার ঔষধ, ছোট বোনের বিয়ে, ছোট ভাইয়ের পড়াশোনার খরচ মেটাতে হিমশিম খেতে হয়। তারাই বোঝে সময়টা কত দ্রুত চলে যায় আর কত দ্রুত ফিরে আসে টাকা পাঠানোর দিনটি। হয়তো এই মাসেও ছোট বোনটার লাল জামাটা কেনা হয় নাই, অসুস্থ্য বাবার ঔষধও হয়তো শেষ।

বাংলাদেশের প্রায় ৫০ লক্ষ মানুষ সরাসরি তৈরি পোশাক শিল্পের সাথে জড়িত। বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশ। বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুসারে, ২০১৪-২০১৫ সালে রপ্তানিতে পোশাক শিল্প খাতের অবদান দাঁড়িয়েছে ৩৭.৪৩ শতাংশ। যার প্রতিটি টাকায় আমাদের শ্রমিক ভাই-বোনদের ঘামে ভেজা পরিশ্রম মিশে আছে। শিক্ষিত ও অল্প শিক্ষিত এই বিশাল জনগোষ্ঠীও দেশের অর্জনে রাখছে অসামান্য অবদান। সহযোগিতা করছে আধুনিক ও ডিজিটাল সোনার বাংলা বিনির্মার্ণে।

বর্তমানে নানা কারনে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প নতুন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে গিয়ে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প অনেকটা পথ ইতি মধ্যে এগিয়ে গেছে। নিশ্চিত হয়েছে আমার শ্রমিক ভাই-বোনদের নিরাপত্তা এবং বিনিয়োগকারীদের সম্পদের পাশাপাশি দেশের সার্বিক উন্নয়ন। বর্তমানে তৈরি পোশাক শিল্পের স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তা, অগ্নি নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য জীবন যাপনের দিকে কারখানার মালিকের পাশাপাশি সরকারও নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। উদ্যোগগুলো সঠিক ভাবে বাস্তবায়ন করতে শ্রমিক ভাই-বোনেরাও নানা ভাবেই সহযোগিতা করছেন। এই ধারাবাহিকতা অব্যহত থাকলে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হতে বেশি সময় লাগবে না। তবে এর জন্য দরকার সরকারের কার্যকরী উদ্যোগে পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহযোগিতা।

সোনার বাংলার সার্বিক উন্নয়নের ধারাকে গতিশীল রাখতে আরএমজি টাইমস গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এই পত্রিকার মাধ্যমে সুবিধা বঞ্চিত আমার সেই সব শ্রমিক ভাই-বোনদের কথাগুলোর পাশাপাশি উন্নয়নশীল এই শিল্প বিকাশের নানান প্রতিবন্ধকতাও উঠে আসবে। উঠে আসবে উন্নয়নের ধারাকে আরো গতিশীল করতে নানান পরামর্শ ও পদক্ষেপের কথা। সরকারি, বে-সরকারি প্রতিষ্ঠানের দ্বারে দ্বারে কষাঘাতের পরও সমস্যা সমাধান না হওয়ার নানান অনিয়মের চিত্র। আমলাতান্ত্রিক ও দূর্নীতি সংক্রান্ত জটিলতার কারনে ধীর গতির উন্নয়নের চাকায় সঞ্চার হবে নতুন শক্তি। বন্ধ হবে বাক স্বাধীনতার নামে চলা রানা প্লাজা আর তাজরিনের মতো নিছক দূর্ঘটনার লাইভ টেলিকাষ্ট। এমনটাই আমাদের প্রত্যাশা।

লেখক : সহকারী ম্যানেজার, এইচআর এ্যান্ড কমপ্লায়েন্স, নীট প্লাস লিমিটেড, গাজীপুর
মেইলঃ khandokarzobair@gmail.com

Share on Facebook130Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Pin on Pinterest0Print this page