ত্রুটি থাকায় ৫৫৩ পোশাক কারখানাকে অ্যাকর্ডের সতর্কবার্তা

ডেস্ক রিপোর্ট : ত্রুটি আগেই শনাক্ত করা হয়েছিল। সংশোধনের জন্য সময়ও দেয়া হয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ে ত্রুটি সংশোধন না হওয়া ৫৫৩টি পোশাক কারখানাকে সতর্কবার্তা দিয়েছে ইউরোপীয় ক্রেতাজোট অ্যাকর্ড অন ফায়ার এন্ড বিল্ডিং সেফটি ইন বাংলাদেশ। শিল্প-কারখানা মূল্যায়নে নিয়োজিত এ সংস্থা এসব কারখানাকে সম্প্রতি দুই ধাপে এ সতর্কতা দেয়। পোশাক খাত-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

accord

কারখানা পরিদর্শনে শনাক্তকৃত ত্রুটি সংশোধনে অনগ্রসরতা ও সংশোধনমূলক কর্মকাণ্ডে অ্যাকর্ডকে পর্যাপ্ত সহযোগিতা না করায় আলোচ্য কারখানাগুলোকে সতর্ক করা হয়। অ্যাকর্ডের কার্যবিধি অনুযায়ী, ত্রুটি সংশোধনে অকার্যকারিতার জন্য বিভিন্ন কারখানার বিরুদ্ধে তিন ধাপে ব্যবস্থা নেয় সংস্থাটি। প্রথম ধাপে নন-কমপ্লায়েন্স বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। দ্বিতীয় ধাপে সতর্কতার বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। আর শেষ ধাপে ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছেদ করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের ৫৫৩টি পোশাক কারখানাকে সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে অ্যাকর্ড। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, ত্রুটি সংশোধনে অকার্যকারিতার জন্য প্রথম ধাপে ৪৪৯টি কারখানার বিরুদ্ধে নন-কমপ্লায়েন্স বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। কারখানা ত্রুটি সংশোধনে যথাযথ সহযোগিতা না করা ও সংশোধনমূলক পদক্ষেপের ঘাটতিতে এ বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়। দ্বিতীয় ধাপে আরো ১০৪টি কারখানাকে সতর্কতার বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সংশোধন কার্যক্রম সম্পন্নের সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে। দুই ধাপ মিলিয়ে মোট সতর্কবার্তা পাওয়া কারখানার সংখ্যা ৫৫৩। এর পরও কাজ না হলে সর্বশেষ ধাপে ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছেদের ঘোষণা দেয়া হবে।

এখন পর্যন্ত ৩৭টি কারখানার সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছেদ করেছে অ্যাকর্ড।

পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ সূত্রে জানা গেছে, অ্যাকর্ডের সতর্কতা বার্তার বিষয়টি সংগঠনকে জানানো হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সংশোধন কার্যক্রমে গতি আনতে সংগঠনের পক্ষ থেকে পদক্ষেপ আশা করে কারখানাগুলোকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিজিএমইএ দ্বিতীয় ধাপের সতর্কবার্তা পাওয়া ১০৪টি কারখানার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এরই মধ্যে বেশকিছু কারখানাকে সংশোধন কার্যক্রম গতিশীল করতে চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে সংশোধন কার্যক্রমে ধীরগতির কারণ ও গুরুত্বপূর্ণ কোনো সমস্যা থাকলে তা সংগঠনকে জানাতে বলা হয়েছে।

বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, অ্যাকর্ড নিয়মিত পদক্ষেপগুলোর বিষয়ে সংগঠনকে অবহিত করে। সে অনুযায়ী আমরা কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে সংশ্লিষ্ট কারখানা কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করি। তাজরীন ফ্যাশনসে অগ্নিকাণ্ড ও রানা প্লাজা ধসের পরিপ্রেক্ষিতে পোশাকশিল্প মূল্যায়নে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। এরই অংশ হিসেবে ইউরোপীয় ক্রেতা জোট ছাড়াও কাজ করছে উত্তর আমেরিকাভিত্তিক অ্যালায়েন্স ফর বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স সেফটি। আর জাতীয় উদ্যোগে মূল্যায়ন কার্যক্রমে সহযোগিতা করছে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)।

চলতি বছরের মে মাসে তৈরি পোশাক কারখানা মূল্যায়ন কার্যক্রমের তিন বছর পূর্ণ করেছে অ্যাকর্ড। তিন বছর পূর্তিতে অ্যাকর্ডের অধীন কারখানাগুলোর ত্রুটি সংশোধনের হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করা হয়। এতে দেখা যায়, অ্যাকর্ডের চিহ্নিত ত্রুটিগুলোর ৪৪ শতাংশ এখনো সংশোধন হয়নি। অ্যাকর্ডে স্বাক্ষরকারী ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বর্তমানে ২১০-এর বেশি। আর চুক্তির আওতায় তালিকাভুক্ত পোশাক কারখানা রয়েছে প্রায় ১ হাজার ৬০০টি। ২০১৩ সালের নভেম্বরে শুরু হয়ে তালিকাভুক্ত কারখানাগুলোর মধ্যে মোট ১ হাজার ৫৫০টি কারখানা পরিদর্শন করা হয়েছে। পরিদর্শনে অগ্নি, বৈদ্যুতিক ও কাঠামোগত ৮৪ হাজার ২১০টি ত্রুটি চিহ্নিত করা হয়।

কার্যক্রমের তিন বছর পূর্তি উপলক্ষে সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন অ্যাকর্ডের বাংলাদেশ প্রতিনিধিরা। সেখানে অ্যাকর্ডের তিন বছরের অগ্রগতি তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, প্রাথমিক পরিদর্শনে চিহ্নিত নিরাপত্তা ঝুঁকির প্রায় ৬০ শতাংশ সংশোধন হয়েছে। এটি একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন। কারখানাগুলো এখন আগের চেয়ে নিরাপদ হয়ে উঠছে। কিন্তু আর বিলম্ব না করে পুরো সংশোধন কার্যক্রম সম্পন্ন করা প্রয়োজন।

সুত্র : দৈনিক ভোরের কাগজ

Share on Facebook628Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Pin on Pinterest0Print this page