ঢাকায় ‘ইটিপি এন্ড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট’ বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

ফজলুল হক, নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকায় কল কারখানার পানি থেকে বর্জ্য শোধনাগার ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১১ নভেম্বর ২০১৬, শুক্রবার রাজধানীর উত্তরাস্থ তিন তারকা হোটেল ” দি হোটেল হাই গার্ডেন” এর মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত দিনব্যাপি এ প্রশিক্ষণটির আয়োজন করে আমেরিকা ভিত্তিক সার্টিফিকেশন ও অডিট কোম্পানী “সাসটেইনেবল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ইনক”।

প্রশিক্ষণে বিভিন্ন পোশাক কারখানা, বায়িং হাউস, পরিদর্শক কোম্পানী ও ব্র্যান্ড থেকে ২১ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণটি পরিচালনা করেন বাংলাদেশের অন্যতম সুপরিচিত প্রশিক্ষক মি. মেহবুব আল হাসান।

প্রশিক্ষণে কলকারখানার থেকে নির্গত বর্জ্যবাহিত পানি পরিবেশ দুষণ, জীবজন্তু ও মানুষের জন্য বিভিন্ন ক্ষতিকর দিক তুলে ধরা হয়। কলকারখানার বর্জ্যবাহিত পানি শোধন করার জন্য ব্যবহৃত ইটিপি পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার বিষয় সম্পর্কে সবিস্তার আলোচনা করা হয়।

মধ্যাহ্ণ ভোজের বিরতিতে প্রশিক্ষক মি. মেহবুব আল হাসান আরএমজি টাইমসকে বলেন, কলকারখানা থেকে নির্গত রাসায়নিক বর্জ্যবাহিত পানি ড্রেন-নালা গলিয়ে গিয়ে পড়ে খাল ও নদীতে এবং তা সরাসরি দূষিত করে পরিবেশকে। ফলে হুমকির মুখে পড়ছে জীব বৈচিত্র আর স্বাভাবিকভাবেই ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে মানুষ। সারা বিশ্বেই এখন পরিবেশ দূষণ রোধ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয়। পরিবেশ দূষণ করার জন্য তো কল কারখানা বন্ধ করা যাবে না। তবে কলকারখানার নির্গত থেকে পানি থেকে ইটিপি’র মাধ্যমে রাসায়নিক ও ক্ষতিকর বর্জ্য শোধন করা সম্ভব হলে পরিবেশ কিছুটা হলেও দূষণ থেকে রক্ষা পাবে। বাংলাদেশের  বেশিরভাগ পোশাক কারখানাগুলোেই ইটিপি স্থাপন করা হয়েছে। তবে সঠিকভাবে ইটিপি পরিচালনা ও পরিচর্যার করার মতো যথেষ্ট প্রশিক্ষিত জনবল তৈরী হয়নি। আজকের প্রশিক্ষণে ইটিপির বিভিন্ন ক্রাইটেরিয়া নিয়ে আলোচনা করার চেষ্টা করেছি। আশা করি, প্রশিক্ষণার্থীরা ইটিপি পরিচালনা, পর্যবেক্ষণ ও পরিচর্যা সম্পর্কে নতুন কিছু শিখতে পেরেছে।

প্রশিক্ষণ চলাকালিন সময়ে উপস্থিত ছিলেন প্রশিক্ষণ আয়োজক প্রতিষ্ঠান ‘সাসটেইনেবল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ইনক.” এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল আলিম। তিনি বলেন, পরিবেশ দূষণ আজ সারাবিশ্বে দুশ্চিন্তার বিষয়ে পরিণত। পরিবেশ দূষণের প্রভাবে বিশ্বব্যাপি জলবায়ু পরিবর্তন জনিত যে সমস্যার আশংকা করা হচ্ছে তা ভয়াবহ। ধারণা করা হচ্ছে এই ভয়াবহতার বেশি ক্ষতির শিকারে পরিণত হবে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের করখানা থেকে নির্গত রাসায়নিক বর্জ্যবাহিত পানি জলাশয়ের পানি দূষিত করছে। পরোক্ষভাবে পরিবেশে সবক’টি উপাদানই চরমভাবে দূষিত হচ্ছে। ইন্ডাস্ট্রি থেকে বর্জ্য হবেই। বর্জ্যকে ডিজলভ করাই ইটিপির কাজ। মালিকপক্ষ যদি সচেতন হয় তবে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হবে।

তিনি আরও বলেন, এখুনি সময় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার্থে শিল্প মালিকদের সচেতনতা তৈরী, ইটিপি স্থাপনে উদ্ধৃত্ত করা ও ইটিপি পরিচালনা করার জন্য দক্ষ জনবল তৈরীর লক্ষ্যে নিয়মিত সেমিনার ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা জরুরী । সাসটেইনেবল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ইনক. এরকম প্রশিক্ষণের আয়োজন অব্যাহত রাখবে।

প্রশিক্ষণের শেষে প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়।

Share on Facebook3.9kShare on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Pin on Pinterest0Print this page