অ্যাকর্ড দায়িত্বপালনে স্বচ্ছ, এলায়েন্স সদস্য কোম্পানী দ্বারা নিয়ন্ত্রিত

ফজলুল হক, নিজস্ব প্রতিবেদক :  বাংলাদেশের পোশাক খাতের নিরাপত্তা মূল্যায়নে ভয়ঙ্কর ধীরগতি ও শ্রমিকের নিরাপত্তা স্বার্থের চেয়ে ব্র্যান্ডগুলির স্বার্থ রক্ষার অভিযোগ উঠেছে আমেরিকা ভিত্তিক ক্রেতা জোট এলায়েন্সের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক শ্রম অধিকার ফোরাম তাদের প্রকাশিত এক রিপোর্টে এ অভিযোগ করে।

accordalliance

অ্যাকর্ড ও এলায়েন্সভুক্ত ১৭৫ টি কারখানার উপর সমীক্ষা  চালিয়ে তৈরি করা এই রিপোর্ট এ বলা হয় ওয়ালমার্ট, গ্যাপ, ভিএফ, টার্গেট ও হাডসন বে এর মত ব্র্যান্ড তাদের পণ্য তৈরি করে এমন কারখানাগুলোতে এখনও অনেক নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েছে। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয় এলায়েন্স তাদের ওয়েবসাইট এ যেসব কারখানাকে on Track” হিসেবে দেখিয়েছে সেসব কারখানার মধ্যে ৪১ শতাংশ অসংশোধিত স্ট্রাকচারাল সমস্যা আছে, ৫৭ শতাংশ ফায়ার এক্সিটে সমস্যা আছে, এবং ৫৮ শতাংশ কারখানায় সঠিক ফায়ার অ্যালার্মিং সিস্টেম নাই। রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয়,  মাল্টি-স্টেকহোল্ডারদের উদ্যোগ অ্যাকর্ড অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে কিন্তু এলায়েন্স সম্পূর্ণ সদস্য কোম্পানির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত ও বাছাইকৃত রিপোর্ট করে থাকে। এছাড়া পোশাক খাতের মূল্যায়নে এলায়েন্সের ভয়ংকর ধীরগতির প্রমাণ পাওয়া গেছে বলেও উল্লেখ করা হয় আন্তর্জাতিক শ্রম অধিকার ফোরামের প্রকাশিত এই রিপোর্টে।

এলায়েন্সের অগ্রগতি রিপোর্ট দেখে আইএলআরএফ উদ্রেগ প্রকাশ করে বলেছে,  ব্র্যান্ডগুলি তাদের কারখানার ঝুঁকিগুলি জানার পরও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। এলায়েন্স কি তাহলে শ্রমিকের নিরাপত্তা স্বার্থের চেয়ে ব্র্যান্ডগুলির স্বার্থ নিয়ে বেশি কাজ করছে কিনা? এমন প্রশ্নও তোলা হয় রিপোর্ট এ।

তবে এলায়েন্স কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে এই রিপোর্টকে অবস্থার ভুলভাবে উপস্থাপন ও অতি সরলীকরণ বলে উল্লেখ করেছেন। এলায়েন্স এর পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, দুটি উদ্যোগ নিয়ে এ ধরনের বৈষম্যমুলক তথ্য পরিবেশন শ্রমিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করণে আমাদের সমষ্টিগত প্রচেষ্টা ক্ষতিগ্রস্থ হবে। এলায়েন্স তাদের প্রতিক্রিয়ায় আরও উল্লেখ করে, রিপোর্টে উল্লেখিত কারখানাগুলোতে অ্যাকর্ড ও এলায়েন্স উভয়ের সদস্য ব্র্যান্ড পণ্য উৎপাদন করে। বস্তুত এই রিপোর্ট যেসব অভিযোগ করেছে এরকম কোন অভিযোগ কখনও অ্যাকর্ড এর পক্ষ থেকে করা হয়নি। কয়েক মিলিয়ন শ্রমিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠান দুটি খুব ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাচ্ছে কিন্তু  কেউ কেউ প্রতিষ্ঠান দুটির মাঝে মিথ্যা প্রতিদ্বন্দ্বিতার গন্ধ খুজে বেড়াচ্ছেন।

 

Share on Facebook2kShare on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Pin on Pinterest0Print this page