ভারতে অমানবিক চুক্তিতে বাধ্য অপ্রাপ্ত বয়স্ক মেয়েদের হাতেই তৈরি হচ্ছে বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ডের পোশাক

নিজস্ব প্রতিবেদক : ভারতের পোশাক খাতে প্রতি বছর প্রায় ১২০০০০ অপ্রাপ্ত বয়স্ক নারী অগ্রহণযোগ্য ও অমানবিক চুক্তির মাধ্যমে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। এই শ্রমিকদের বাধ্যতামূলক শ্রমের ফসল হিসেবে পাওয়া তৈরি পোশাক নামী দামী দেশি বিদেশী ব্র্যান্ডের লেবেল এ ছড়িয়ে যাচ্ছে বিশ্বব্যাপী।

ভারতের পোশাক খাত কৃষির খাতের পরে এই খাতেই সবচেয়ে বেশি ৪৫ মিলিয়ন লোকের সরাসরি কর্মসংস্থান। রপ্তানী ছাড়াও ভারতের রয়েছে বিশাল স্থানীয় বাজার। এই দেশে আন্তর্জাতিক মানের কাখানাগুলির পাশাপাশি পরিবারচালিত প্রচুর ছোট ছোট কারখানা ও দোকান রয়েছে যারা বড় কারখানাগুলির সাবকন্ট্রাকটার হিসেবে কাজ করে, আর এভাবেই তাদের হাত ঘুরে পৃথিবীর স্বীকৃত সব ব্র্যান্ডের পোশাক তৈরি হচ্ছে।

42228-2402119-06_jpg1

অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ববাজারে খরচ কমাতে সম্ভব সবকিছু করে যাচ্ছে কারখানাগুলি। আর এরই এক উৎকৃষ্ট উদাহারন হল “সোমাঙ্গালি”। সভ্যতার এই সময়েও ভারতের দরিদ্র ঘরে মেয়ে সন্তানের জন্ম যেন এক অভিশাপ। শুধুমাত্র যৌতুক দিয়ে মেয়েকে পাত্রস্থ করাই বাবা-মায়ের জন্য এক বিরাট চিন্তার বিষয়। আর সেই সুযোগে নামমাত্র অর্থের আশ্বাসের বিনিময়ে পিতামাতা তাঁর ১২/১৩ বছরের সন্তানকে তুলে দেন কারখানার কর্তৃপক্ষের হাতে। যৌতুকের মত অমানবিক এই প্রথার সবচেয়ে আক্রান্ত স্থান হল তামিলনাড়ু প্রদেশ যেখানে প্রতি বছর প্রায় ১২০০০০ শিশু বা কিশোর মেয়েরা এভাবেই অমানবিক চুক্তির স্বীকার হচ্ছে।

 Anti-Slavery International নামক এনজিও এর মতে গড়পরতা ৬০০০০ টাকায় তিন বছরের চুক্তিতে পরিবারগুলি তাদের শিশু/কিশোরীদের কারখানার কাছে সমর্পণ করছেন। তাদের ২০১২ সালের রিপোর্টে প্রকাশ করে যে, অনেক ক্ষেত্রেই কাজের পরিবেশ ভয়ানক ও তাদের চলাচল কারখানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এমনকি গুরুতর অসুস্থ হলেও তারা বাইরে যেতে পারেনা। বিভিন্ন কারণে তাদের বেতন কর্তন করা হয়, এমন কি অনেকে শেষ পর্যন্ত সামান্য টাকাই পায় বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়।

Fair Wear Foundation নামক সংস্থা এ বিষয় নিয়ে বিশদ কাজ করেছে। যেভাবে “সোমাঙ্গালি” চর্চা করা হচ্ছে তাঁকে তারা অবৈধ বলে তাদের রিপোর্টে উল্লেখ করে।

ভারতের শ্রম আইন সকল প্রকারের জোরপূর্বক কাজকে অবৈধ করেছে। কিন্তু আইনের প্রয়োগের দুর্বলতার জন্যই মুলত এমন হচ্ছে। বিশেষত, নিম্ন বর্ণের হিন্দু, উপজাতি জনগোষ্ঠী ও অন্য প্রদেশ থেকে আশা মানুষ বেশি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

Share on Facebook1kShare on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Pin on Pinterest0Print this page