ঢাকা রবিবার, জুলাই ২১, ২০১৯



রংপুর বিভাগে প্রথম অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা হচ্ছে দিনাজপুরে

ডেস্ক রিপোর্ট: রংপুর বিভাগের মধ্যে প্রথম অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা হতে যাচ্ছে দিনাজপুরে। এজন্য দিনাজপুর সদর উপজেলার সুন্দরবন মৌজায় আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষকে (বেজা) ৮৭ একর জমি হস্তান্তর করেছে দিনাজপুর জেলা প্রশাসন। মোট তিনশ’ একর জমির ওপর এই অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা হওয়ার কথা রয়েছে।

জানা যায়, যেহেতু এটি কৃষিভিত্তিক এলাকা। কৃষিভিত্তিক এলাকার কথা বিবেচনা করেই এখানে কৃষিভিত্তিক শিল্প কলকারখানা, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, হালকা ইঞ্জিনিয়ারিং, গার্মেন্টস ও টেক্সটাইল, ফার্মাসিউটিক্যাল কারখানা প্রতিষ্ঠা করা হবে। এছাড়া যেহেতু দিনাজপুরে সম্প্রতি একটি মূল্যবান লোহার খনি পাওয়া গেছে, সেহেতু এই লোহার খনির ওপর ভিত্তি করে এখানে লোহা ও স্টিল কারখানা স্থাপন করা হবে।

জানা গেছে, দিনাজপুর জেলায় বেকারত্বের হার বেশি। এদেশের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা দেওয়া এবং বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার জন্য দিনাজপুরে অর্থনৈতিক অঞ্চল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাছাড়া দিনাজপুর অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা হলে উত্তরবঙ্গের শিল্পায়ন ঘটবে এবং সহজ শ্রম পাওয়ার সুযোগ বৃদ্ধি পাবে।

দিনাজপুরে হিলি স্থলবন্দর ও প্রস্তাবিত বিরল স্থলবন্দর রয়েছে। এছাড়া পঞ্চগড়ে রয়েছে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর। দিনাজপুরে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা হলে এখানকার উৎপাদিত পণ্য সহজে এসব স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে রফতানি করা সহজ হবে।

জেলা প্রশাসক মাহমুদুল আলম বাংলা ট্রিবিউন এর বরাত দিয়ে বলেন, ‘দিনাজপুর সদর উপজেলার সুন্দরবন গ্রামে মোট ৩০৮ একর জমির ওপর অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করা হবে। এর মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ৮৭ একর জমি নামমাত্র মূল্যে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষকে হস্তান্তর করা হয়েছে। এসব জেলা প্রশাসনের খাস জমি।’

তিনি আরও জানান, বাকি ২২১ একর জমি অধিগ্রহণযোগ্য। এই অধিগ্রহণযোগ্য জমির ওপর ঘরবাড়ি, স্থাপনা ও গাছপালা থাকায় তা স্থাবর সম্পত্তি। হুকুমদখল আইন ২০১৭ মোতাবেক শিগগিরই ওই ২২১ একর জমি অধিগ্রহণ করে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষকে হস্তান্তর করা হবে।

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের উপব্যবস্থাপক আবু লাহেল জানান, রংপুর বিভাগে মোট ৯টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে দিনাজপুরেই প্রথম অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার জন্য জমি বন্দোবস্ত হলো।

তিনি বলেন, ‘সম্পূর্ণ জমি বন্দোবস্ত হওয়ার পর এখানে প্রথমে স্থাপনা নির্মাণ করা হবে। এরপর শিল্প কলকারখানা প্রতিষ্ঠা করে এটি চালু করা হবে। এজন্য দুই থেকে আড়াই বছর সময়ের প্রয়োজন হবে।’


আর্কাইভ