ঢাকা মঙ্গলবার, আগস্ট ২০, ২০১৯



ছুটি পেতে পেতেই চিরনিদ্রায় পোশাক শ্রমিক আব্দুর রব

নিজস্ব প্রতিনিধি: পোশাক শ্রমিক আব্দুর রব। কর্মক্ষেত্রেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। সুপারভাইজারের অনুমতি নিয়ে কারখানার চিকিৎসকের শরনাপন্ন হলে চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসা ও বিশ্রামের পরামর্শ দিলেও রবকে ফ্লোরে ফিরে গিয়ে চিকিৎসার জন্য ছুটি নিতে অনুসরন করতে হয় কারখানার বেধে দেওয়া নিয়ম। ধাপে ধাপে অনুমোদনের ধীরগতির সেই পদ্ধতি থেকে একটুও ছাড় পায়নি রব, তবে ছাড় পেয়েছেন জীবনের এই চিরচেনা যুদ্ধ থেকে। সুপারভাইজার থেকে ম্যানেজার; ম্যানেজার ও পরে আরো ওপরের কারো কাছে ছুটির অনুমোদন নেওয়ার সেই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই ফ্লোরে লুটিয়ে পড়েন আব্দুর রব। পরে কারখানার গাড়িতেই মাওনা চৌরাস্তার আল-হেরা হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। গাজীপুরের বাঘের বাজারে পলমল গ্রুপের একটি পোশাক কারখানায় ১০ জুলাই, বুধবার এ ঘটনা ঘটে।

কয়েকটি জাতীয় দৈনিকে উল্লেখ করেছে যে, কারখানাটির প্রোডাকশন ম্যানেজার অসুস্থ ওই শ্রমিকের ছুটির দরখাস্ত ছিঁড়ে ফেলে কাজে যোগ দিতে বাধ্য করেন। কিন্তু কারখানা কতৃপক্ষ দরখাস্ত ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ সঠিক নয় বলে আমাদের প্রতিনিধিকে জানিয়েছেন।

এদিকে আবদুর রবের এমন মৃত্যুর সংবাদ কারখানায় ছড়িয়ে পড়লে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কর্তৃপক্ষ বুধবার কারখানা বাকি সময়ের জন্য ছুটি ঘোষণা করে।

এখানে কারও কোন অবহেলা থাকলে কারখানা কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে এবং আব্দুর রবের পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে বলে কারখানা সুত্রে জানা যায়।

নিহত আবদুর রব মিয়া ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার কামারিয়া গ্রামের মৃত নবী হোসেনের ছেলে। কারখানার শ্রমিক ও স্থানীয়রা জানান, আবদুর রব বাঘের বাজার এলাকায় থেকে উক্ত কারখানায় দীর্ঘদিন ধরে সুয়িং আয়রনম্যান পদে চাকরি করে আসছেন। ঘটনার দিন বুধবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে কারখানায় কাজ করার সময় হঠাৎ তিনি বুকে ব্যাথা অনুভব করেন। এ সময় সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে কারখানার চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দেওয়া হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আবদুর রব উন্নত চিকিৎসার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ছুটি নিয়ে বাড়ি যাওয়ার আবেদন করেন।


আর্কাইভ