ঢাকা সোমবার, ডিসেম্বর ৯, ২০১৯



অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের জন্য শোভন কর্ম পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি

ডেস্ক রিপোর্ট: “বিশ্ব শোভন কর্ম দিবস” উদযাপন উপলক্ষে, অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের জন্য শোভন কর্ম পরিবেশ নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে তাদেরকে এ বিষয়ে অবহিতকরণ এবং শোভন কর্ম পরিবেশ প্রাপ্তির অধিকার বিষয়ে সচেতন করে তোলার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ-বিল্স এবং অ্যাকশন এইড বাংলাদেশ এর যৌথ উদ্যোগে “অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিক সমাবেশ ও আলোচনা সভা” আজ ৭ অক্টোবর ২০১৯ জাতীয় প্রেস ক্লাব অডিটোরিয়াম, ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়।

বিল্স এর ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসাইন এর সভাপতিত্বে এবং জাতীয় শ্রমিক জোট বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক নইমুল আহসান জুয়েল এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মো: ইসরাফিল আলম এমপি।

আরো বক্তব্য রাখেন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের যুগ্ম মহাপরিদর্শক ড. মো: মোস্তাফিজুর রহমান, শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ-স্কপ এর যুগ্ম-সমন্বয়কারী মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ, বিল্স এর যুগ্ম মহাসচিব এবং নির্বাহী পরিচালক মোঃ জাফরুল হাসান, বিল্স এর যুগ্ম মহাসচিব ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি রাজেকুজ্জামান রতন, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী আশিকুল আলম, জাতীয় গ্রাহস্থ্য নারী শ্রমিক ইউনিয়ন এর উপদেষ্টা আবুল হোসাইন, অ্যাকশন এইড বাংলাদেশের উপ পরিচালক ফারিয়া চৌধূরী প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে শোভন কাজ বিষয়ক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ কর্ম বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোস্তাফিজ আহমেদ।

দেশের শ্রমিকের অধিকার ও নিরাপত্তা অন্যান্য ইস্যুর তুলনায় অনেকটাই উপেক্ষিত মন্তব্য করে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো: ইসরাফিল আলম এমপি বলেন, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হলে আগে শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। দেশের মোট শ্রম শক্তির ৮৫% শ্রমিক কাজ করে অপ্রাতিষ্ঠানিত খাতে। অথচ তাদের জন্য কোন আইন নেই, তারা শ্রম আইনের বাইরে। এর কারনে শ্রমিক হিসেবে তাদের যে অধিকার তা থেকে তারা বঞ্চিত।

তাদেরকে শ্রম আইনের আওতায় আনার বিষয়ে জোর দিয়ে তিনি বলেন, অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের জন্য শোভন কর্মপরিবেশ, কর্মঘন্টা, বাঁচার মত মজুরি নিশ্চিত করতে পারলেই শোভন কর্মদিবস পালন সার্থক হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ বলেন, অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের চুক্তি পত্র, পরিচয় পত্র, নির্দিষ্ট কর্মঘন্টা, সাপ্তাহিক ছুটি এবং ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার নেই। শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হলে আগে এগুলো নিশ্চিত করতে হবে। এর জন্য প্রয়োজনে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন করতে হবে।

অনুষ্ঠানে নির্মাণ, মটর মেকানিক, হোটেল-রেস্তোরা, বিউটি পার্লার ও অনলাইনে খাবার সরবরাহ খাত সহ বিভিন্ন অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কর্মরত শ্রমিক, সংশ্লিষ্ট খাতের জাতীয় পর্যায়ের ট্রেড ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ, সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তাবৃন্দ, নাগরিক সমাজ, মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধিগণ এবং গণমাধ্যম কর্মীগণ উপস্থিত ছিলেন।


আর্কাইভ