ঢাকা বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারী ২৭, ২০২০



বাজারে এসেছে দেশীয় পোশাকের নতুন ব্র্যান্ড ‘সোলাস্তা’

ডেস্ক রিপোর্ট: মৌলিক প্রয়োজনের একটি হিসেবে পোশাক আমাদের রুচি, পছন্দ ও আভিজাত্যেরও পরিচায়ক। আমাদের পোশাক স্বাচ্ছন্দকে আরেক ধাপ বাড়িয়ে দিতে দেশের পোশাক বাজারে এসেছে দেশীয় নতুন ব্র্যান্ড ‘সোলাস্তা’। এটি দেশের স্বনামধন্য তৈরি পোশাক কারখানা মডেল গ্রুপের নিজস্ব উদ্যোগ।

আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড হিসেবে পরিগণিত হওয়ার প্রতিশ্রুতি সূচনাতেই দিয়েছে সোলাস্তা। কারণ দুনিয়াজুড়ে বাংলাদেশের পরিচয় অন্যতম সেরা পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে। চার দশকের বেশি সময় ধরে এই গৌরব দখলে থাকলেও নিজেদের কোনো ব্র্যান্ড আন্তর্জাতিক ফ্যাশনে জায়গা করে নিতে সক্ষম হয়নি। অথচ আমাদের রয়েছে উদ্ভাবনী ডিজাইনার, সৃজনশীলতা আর দক্ষ জনশক্তি। এই অভাববোধ থেকেই দেশের বাজারে পা রাখা সোলাস্তার। লক্ষ্য, সময়ের ধারায় আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড হয়ে ওঠা।

এই ফ্যাশন ব্র্যান্ডের অভিযাত্রা স্মরণীয় হয়েছে জমকালো আয়োজনে আত্মপ্রকাশের মধ্যে দিয়ে। অনুষ্ঠানে দেশের বিশিষ্টজন এবং বিদেশি অতিথিদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখ করার মতো। সোলাস্তা পথচলা শুরু করল বসুন্ধরা সিটি শপিং মলের আউটলেট দিয়ে। অচিরেই আরও দুটো আউটলেটের দরজা খুলে দেবে এই ফ্যাশন ব্র্যান্ড। কয়েক দিনের মধ্যে সোলাস্তার পণ্য পাওয়া যাবে অনলাইনেও: (www.solastabd.com)।

এ আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী সাংসদ আসাদুজ্জামান নূর, বিশেষ অতিথি হিবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি  ড. রুবানা হক।

বাংলাদেশের জনসংখ্যার একটা বড় অংশই তরুণ। এঁরা বস্তুত বিশ্বনাগরিক। এঁদের রুচি আর পছন্দ তাই একেবারেই আলাদা। ফ্যাশনসচেতনও যথেষ্ট পরিমাণে। তাই শুধু অনুষ্ঠান বা উপলক্ষ নয়, প্রতিদিনের পরিধেয় নিয়েও তাঁরা যথেষ্ট সতর্ক। এঁরাই বলতে গেলে বাংলাদেশের ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রির মূল ক্রেতা। এ কারণে এই তরুণদের কথা মাথায় রেখেই যাত্রা শুরু হলো সোলাস্তার। প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার তথা মডেল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদুজ্জামানের কথায় ছিল তারই অনুরণন। তবে হৃদয়ে তরুণেরাও যে সোলাস্তার অনুরাগী হতে পারবেন, সেটাও জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি বলেছেন, সোলাস্তা মানে বর্ণাঢ্য, উজ্জ্বল। বাংলার সৃজননৈপুণ্যের ঔজ্জ্বল্য কেবল দেশেই নয়, প্রতিফলিত হবে সারা বিশ্বে।

ভবিষ্যতে সোলাস্তাকে বাংলাদেশের ব্র্যান্ড হিসেবে অন্য দেশে নিয়ে যেতে চান মাসুদুজ্জমান।

ড. রুবানা হক বলেন, বিদেশি ব্র্যান্ডের মতোই বাংলাদেশের ব্র্যান্ড বিদেশে রাজত্ব করবে। এ ক্ষেত্রে পথ দেখাবে সোলাস্তা।

সোলাস্তার আত্মপ্রকাশকে অভিবাদন জানিয়ে আসাদুজ্জামান নূর বলেন, ‘এতকাল আমরা তো শুধু বিদেশিদের জন্য ফরমায়েশি কাজ করেছি। পৃথিবীর শীর্ষ ব্র্যান্ডগুলো আমাদের এখান থেকেই পণ্য তৈরি করিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। অথচ সব ক্ষেত্রে আমাদের পণ্যের প্রত্যাশিত ভাবমূর্তি আজও তৈরি হয়নি। সোলাস্তা আমাদের এ চাহিদা পূরণ করতে পারবে।’

মডেল গ্রুপের অনন্য ফ্যাশন উদ্যোগ হিসেবে তিন শতাধিক বিশ্বমানের ডিজাইনের পোশাক, অ্যাকসেসারি ও লাইফস্টাইলের সামগ্রী নিয়েই যাত্রা শুরু করল সোলাস্তা। এসব পণ্যের মানের সঙ্গে থাকছে ডিজাইনে থাকছে ঐতিহ্যে সঙ্গে আধুনিকতা, প্রাচ্যের সঙ্গে প্রতীচ্যের মিলিত সৌকর্য। বৈশ্বিক ফ্যাশনের সঙ্গে মানানসই পোশাক আর অনুষঙ্গ যেমন থাকছে সোলাস্তার সংগ্রহে, তেমনি ঐতিহ্যবাহী পোশাকও ঋদ্ধ করছে এই সংগ্রহকে।

পাঁচতারা হোটেল র‌্যাডিসন ব্লুতে আয়োজিত অনুষ্ঠানের নানা আয়োজন জমিয়ে দেয় জানুয়ারির শেষ সন্ধ্যা। সময়ের ধারায় মডেল গ্রুপের ব্যবসাযাত্রা পেরিয়েছে দুই দশকের বেশি। সেই জার্নি উপস্থাপিত হয় লেজারের আলোছায়ায়। বাংলাদেশের ফ্যাশনের বিবর্তন তুলে ধরে প্রাচ্যনাট। কেক কেটে ফ্যাশন ও লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড সোলাস্তার অভিযাত্রার সূচনা করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি ও মডেল গ্রুপের কর্তাব্যক্তিরা।

মডেল গ্রুপের দীর্ঘ অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সর্বোচ্চ স্বাচ্ছন্দ্যের পাশাপাশি সর্বোৎকৃষ্ট মান করা হবে বলে জানালেন সোলাস্তার চিফ ডিজাইনার কাশফিয়া নেহরিন, বাংলাদেশের ফ্যাশনপ্রিয় মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত, আরামদায়ক আর পরিবেশবান্ধব পণ্য উপহার দিতে নিজস্ব গবেষণা ও উন্নয়ন টিম ছাড়াও রয়েছে ১২ জন দক্ষ ডিজাইনার।


আর্কাইভ