ঢাকা সোমবার, মে ২৫, ২০২০



এখনো চালু অনেক পোশাক কারখানা, করোনা ঝুঁকিতে শ্রমিকরা

ডেস্ক রিপোর্ট: করোনাভাইরাসের কারণে দেশে সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটি চলছে। কিন্তু এর মধ্যেও বেশ কয়েকটি পোশাক কারখানা চালু রয়েছে। এসব কারখানায় করোনা ঝুঁকি রয়েছে বলে মন্তব্য করছেন সংশ্লিষ্টরা। এমনকি কিছু কারখানায় স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করছেন শ্রমিক নেতারা।

জানা গেছে, রাজধানীর অদূর সাভারের আশুলিয়া এলাকায় ছয়টি, চট্টগ্রামে ১০টি, গাজীপুরে ২১টি এবং ঢাকা মেট্টোপলিটন এলাকায় ৪টি গার্মেন্টস খোলা ছিল বুধবার (০৮ এপ্রিল)। এই ৪১টি পোশাক কারখানা বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সদস্যভুক্ত। এর বাইরে সাব-কন্টাক্ট্রে কাজ করা আরও অনেক কারখানা চালু ছিল বলেও অভিযোগ করছেন শ্রমিক নেতারা।

শ্রমিক নেত্রী মোশরেফা মিশু বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে সবাই যখন বাসায় অবস্থান করছে, তখন একপ্রকার জিম্মি করেই শ্রমিকদের কারখানায় আনা হচ্ছে। এতে একদিকে তার সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, ঝুঁকিতে পড়ছে তাদের পরিবারও। আমরা বরাবরই দাবি জানিয়ে আসছি, অন্তত এপ্রিল মাস শ্রমিকদের বেতন দিয়ে ছুটিতে রাখা হোক।

গত ৬ এপ্রিল বিজিএমইএ ও নিট পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিকেএমইএ) যৌথভাবে সরকারের ছুটির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আগামী ১৪ এপ্রিল (মঙ্গলবার) পর্যন্ত কারখানা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে সদস্যভুক্ত যেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানের জরুরি রপ্তানি আদেশ রয়েছে এবং করোনাভাইরাস মোকাবিলার উপকরণ মাস্ক এবং পিপিই তৈরি করছে সেসব প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনে খোলা রাখতে পারবে বলে জানায়। তবে সে ক্ষেত্রে স্ব স্ব অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ/বিকেএমইএ), কল-কারখানা পরিদর্শন অধিদপ্তর এবং শিল্প পুলিশকে অবহিত করতে হবে। কিন্তু চালু রাখা অধিকাংশ কারখানায় স্বাস্থ্যবিধি না মানার অভিযোগ উঠেছে।

গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম রনি বলেন, অনেক কারখানাতেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিধি মানা হচ্ছে না। শুধু যে কয়টা পোশাক কারখানায় মাস্ক এবং পিপিই তৈরি করা হচ্ছে সেখানে কিছুটা স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে।

তিনি বলেন, মাস্ক এবং পিপিই তৈরির জন্য কারখানা চালু রাখার বিষয়টি একটি অজুহাত। আমরা খবর পেয়েছি চালু রাখা সব কারখানায় মাস্ক, পিপিই তৈরি করা হচ্ছে না। অন্যকাজে শ্রমিকদের নিয়োজিত করা হয়েছে।

তবে বিজিএমইএ পরিচালক মঈনউদ্দিন রুবেল বলেন, যেসব কারখানা খোলা রাখা হয়েছে সেগুলোতে মাস্ক ও পিপিই তৈরি করা হচ্ছে। আমার জানামতে প্রতিটা কারখানাতেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজ করানো হচ্ছে শ্রমিকদের। যারাই কারখানা খোলা রেখেছেন তারা বিজিএমইএকে জানিয়েই খোলা রেখেছেন। আমাদের পক্ষ থেকেও বিষয়টি দেখা হচ্ছে।

Comments


আর্কাইভ