ঢাকা সোমবার, নভেম্বর ১৮, ২০১৯



আশুলিয়ায় পোশাক কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন, আটক ১

ডেস্ক রিপোর্ট : শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকার মেডলার এ্যাপারেলসে গত শনিবার রাতের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কারখানার কাটিং সেকশনে স্যাম্পলম্যান হেলাল মাঝিকে আটক করেছে ডিবি পুলিশ। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দমকল বাহিনীর পক্ষ থেকে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। আটককৃত হেলাল মাঝি ঝালকাঠি জেলার নলছিটির দুকাঠি এলাকার ইদ্রিস আলীর ছেলে। সে কারখানাটিতে স্যাম্পলম্যান হিসেবে চাকরি করত।

এ ব্যাপারে থানা সূত্র জানায়, মেডলার এ্যাপারেলসের নিরাপত্তায় নিয়োজিত সদস্যদের তথ্যমতে কারখানাটি রাত সাড়ে ৮টায় ছুটির মুহূর্তে সিঁড়ি দিয়ে দ্রুত নামার সময় দ্বিতীয় তলার স্যাম্পলম্যান হেলাল মাঝির দেহ তল্লাশি করে একটি ম্যাচ ও সিগারেট পাওয়া যায়। যদিও কারখানার নিয়মানুযায়ী কারখানার ফোরে দাহ্য পদার্থ ও ধূমপানসংক্রান্ত বিড়ি সিগারেট জাতীয় কোনো কিছুই নিয়ে প্রবেশ করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। হেলাল মাঝির কাছে ম্যাচ ও সিগারেট পাওয়ার পর তাকে কারখানা অভ্যন্তরে আটক করা হয়। এর কিছুক্ষণ পরই কাটিং সেকশনের দ্বিতীয় তলায় ফেব্রিক্স গোডাউনে আগুন লাগে। এ সময় সব শ্রমিক নিরাপদে নামলেও কারখানাটির কাটিং সেকশনের যাবতীয় আসবাবপত্র, মেশিনারি ও গোডাউনে রক্ষিত ফেব্রিক্স সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়। প্রায় সোয়া তিন ঘণ্টায় আশুলিয়া, সাভার, ধামরাই ও উত্তরা এলাকার দমকল বাহিনীর সাতটি ইউনিট ভয়াবহ এ অগ্নিকাণ্ড নির্বাপণে কাজ করে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনে। ওই রাতেই ডিবি পুলিশের কাছে কারখানায় নিয়োজিত নিরাপত্তা কর্মীরা হেলাল মাঝিকে তাদের হাতে সোপর্দ করে। পরে রাতেই ডিবি সদস্যরা থানায় আটককৃত হেলালকে হস্তান্তর করে। ঘটনায় তদন্তসাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও থানা সূত্র জানায়।

এ দিকে ডিইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আব্দুল হামিদ জানান, মেডলার এ্যাপারেলসের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দমকল বাহিনীর উপপরিচালক দেবাশিষকে সভাপতি, উপসহকারী পরিচালক মামুন মাহমুদকে সাধারণ সম্পাদক ও তাকে সদস্যসহ তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। এ কমিটিকে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। তিনি ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে বলেন, এখন পর্যন্ত তা নিরূপণ করা হয়নি। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে। কারখানাটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

কারখানা সূত্র জানায়, শনিবার রাতে কারখানার কাটিং সেকশনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তাদের অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ভস্মীভূত বর্জ্য সরিয়ে এবং সেকশনটি চালু ও উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে একটু সময় লাগবে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা শট সার্কিট না নাশকতা সে বিষয়েও কারখানা কর্তৃপক্ষ ও দমকল বাহিনী তদন্ত করছে। সে অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে বলেও জানা যায়।

অন্য দিকে গতকাল কারখানায় গিয়ে দেখা যায়, কারখানার অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত দ্বিতীয় তলায় বিভিন্ন স্থানে দেয়ালে ফাটল ধরেছে। এ ফাটল কারখানাটির ভৌত অবকাঠামোগত কোনো সমস্যা করবে কি না সে বিষয়েও সবার চিন্তার কারণ বলে জানা গেছে। গতকাল সকাল থেকে কারখানার গেটের সামনে ব্যাপকভাবে শ্রমিকদের উপস্থিত থাকতে ও ভিড় করতে দেখা গেছে। তবে কাউকেই কারখানা অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি।


আর্কাইভ