ঢাকা বুধবার, জুলাই ৮, ২০২০



গাজীপুরে বকেয়া বেতনের দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন: আহত ১৬

নিজস্ব প্রতিনিধি : গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বকেয়া বেতন ভাতা পরিশোধের দাবিতে হ্যাসং বিপি লিমিটেড পোশাক কারখানার শ্রমিকরা বুধবার (১৮ অক্টোবর) কর্মবিরতি, বিক্ষোভ, অবস্থান ধর্মঘট ও সড়ক অবরোধ করেছে। এসময় তারা কারখানায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুরও করেছে। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের কয়েকদফা সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল ও শর্টগানের গুলি ছুড়েছে। এ ঘটনায় পুলিশের চার সদস্যসহ অন্তত ১৬জন আহত হয়েছেন। পরে শ্রমিক অসন্তোষের মুখে কর্তৃপক্ষ কারখানা ছুটি ঘোষণা করেছে।

গাজীপুর শিল্প-পুলিশ-২’র ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ জানান, গত মাসের বকেয়া বেতন ভাতা পরিশোধের দাবিতে শ্রমিকরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। পুলিশ ফাঁকা ৮ রাউন্ড শর্টগানের গুলি ও ১১ রাউন্ড টিয়ারশেল ছুড়ে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দুপুরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং মহাসড়কের ওপর থেকে আন্দোলনরত শ্রমিকদের সরিয়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। শ্রমিকদের ছোড়া ইটের আঘাতে পুলিশের চার সদস্য আহত হয়েছেন।

সড়ক অবরোধ করে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়আন্দোলনরত শ্রমিকরা জানান, গত কয়েকদিন ধরে তাদের তিন মাসের বকেয়া বেতনসহ পাওনা ভাতাদি পরিশোধের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়ে আসছিলেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ একাধিকবার তারিখ নির্ধারণ করে শ্রমিকদের পাওনাদি পরিশোধের ঘোষণা দিলেও তা পরিশোধ করেনি। এতে শ্রমিকদের মাঝে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। এ কারখানায় প্রায় দুই হাজার শ্রমিক রয়েছে। সর্বশেষ বুধবার শ্রমিকদের পাওনাদি পরিশোধের কথা ছিল। কিন্তু এদিনও তা পরিশোধ না করায় শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়ে ওঠে। এক পর্যায়ে সকাল থেকে শ্রমিকরা বকেয়া বেতনসহ তাদের পাওনাদি পরিশোধের দাবিতে বিক্ষোভ, কর্মবিরতি ও কারখানার সামনে অবস্থান ধর্মঘট শুরু করে। এতেও কর্তৃপক্ষের সাড়া না পেয়ে উত্তেজিত শ্রমিকরা কারখানায় হামলা চালিয়ে বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর করে। পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তারা কারখানা থেকে বের হয়ে পার্শ্ববর্তী ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে অবস্থান নেয়।

এসময় তারা বিক্ষোভ করে ও টায়ার জ্বালিয়ে ওই মহাসড়ক অবরোধ করে। সকাল ১১টা পর্যন্ত প্রায় আধা ঘণ্টা অবরোধের কারণে ওই মহাসড়কের উভয়দিকে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আন্দোলনরত শ্রমিকদের বাধা দিলে শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে।

এতে শিল্প পুলিশের ইন্সপেক্টর শহীদুল্লাহ এবং কনস্টেবল আসাদ, মোসলেম ও রাস্তান আহত হন। এসময় পুলিশ লাঠিচার্জ করলে শ্রমিক ও পুলিশের মাঝে সংঘর্ষ এবং ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এক পর্যায়ে পুলিশ ফাঁকা ৮ রাউন্ড শর্টগানের গুলি ও ১১ রাউন্ড টিয়ারশেল ছুড়ে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দুপুরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

Comments


আর্কাইভ